যেমন বৃক্ষ তেমন ফল

নজরুল ইসলাম হাবিবী

আপনি এখন কিছু করছেন না, মনে করছেন নিরব ইতিকাফে চুপচাপ বসে আছেন, জিকির করছেন, আপনি হাজী সাহেব-
কিন্তু আমলের ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে যাচ্ছে।
আপনি নামাজ পড়ছেন, এখন ভাল ভাল আমল করছেন-
তারপরও ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে যাচ্ছে।
আপনি খাচ্ছেন, পড়াশোনা করছেন কিংবা কোরআন নিয়ে বসে আছেন,
তবুও আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখা হচ্ছে।
কিন্তু কেন?
অপরাধটা কি?
অপরাধ হলো, আপনি এখন কিছু না করলেও, এমন কিছু সমাজে করে রেখেছেন, যাতে করে সমাজ বিভক্ত হয়েছে। কোন্দল সৃষ্টি করেছেন। হিংসা-বিদ্বেষের বৃক্ষরোপণ করেছেন। এমন কিছু প্রতিষ্ঠান করেছেন যাতে মানুষ অন্যায়, অশ্লীলতা, বেহায়াপনার অনুশীলন করছে। আপনি মক্কাতে বসবাস করলেও সে কৃতকর্মের ফল আপনি পেতেই থাকবেন।
মক্কার তেতুল গাছ তেতুলই তো দেবে,- আম দেবে না।
আপনি কবি, সাহিত্যিক, লেখক, শিল্পী, সাধক। আপনার সে কলমি শক্তিকে আপনি লাগিয়েছেন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য, বেহায়াপনা বা অপসংস্কৃতি চর্চার জন্য। সাহিত্যের নামে এমন কিছু কথাবার্তা লিখেছেন যাতে সমাজ নষ্ট হয়, চরিত্র ধ্বংস হয়। আপনার সেই অপসংস্কৃতিকে যারা অনুসরণ করবে তাদের কৃতকর্মের গুনার কুফল আপনি পেতে থাকবেন যদিও আপনি বসবাস করেন মদিনায়।
মদিনার লেবু গাছ লেবুই তো দেবে,- নাশপতি দেবে না।
ফেরেশতা আপনার আমল নামায় গুনাহ লিখে চলেছেন অবিরত। কারণ, আপনি এমন সব কিছু করেছেন যে কাজটি চলতেই আছে পৃথিবীতে অবিরত। ভালো কাজের সুফল- সাদাকায়ে জারিয়া যেমন চলতে থাকে, কুকাজের কুফল সেভাবে চলতেই থাকবে অনন্তকাল।
আপনি যদি মারাও যান তবুও আমলের ফেরেশতা গুনাহে জারিয়ার হিসাব সংরক্ষণ করছে। কারণ, আমলের ফেরেশতাকে আপনি নিয়োগ দিয়েছেন।
সমাজে, সাহিত্যে খারাপ কাজ করে আপনি তাদেরকে চাকুরী দিয়েছেন যেন আপনার হিসাবটা ভালো করে রাখে। আমলের ফেরেস্তা আপনাকে জান্নাত বা জাহান্নামে না পৌঁছানো পর্যন্ত থামবে না।
আপনার থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যতজন আপনার প্রদর্শিত খারাপ কাজটি করবে, তার সমপরিমাণ গুনাহ আপনার একাউন্টেও জমা হতে থাকবে, হেরফের হবে না।
সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি যখন অশালীনতা শিখাচ্ছেন, অন্য দিকে, কেউ হয়তো এই সামাজিক মাধ্যমগুলোতে অন্যদের দ্বীনের দাওয়াত দিচ্ছে, শিক্ষা মূলক পোস্ট দিচ্ছে, কুরআন-হাদীসের কথা শেয়ার করছে কিংবা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আমল শেয়ার করছে। যতজনই তাদের মাধ্যমে কোনভাবে কেউ উপকৃত হচ্ছে কিংবা নতুন কিছু শিখে আমল করছে, অটোমেটিকেলি তাদের একাউন্টেও সমপরিমাণ নেকি সওয়াব জমা হয়ে যাচ্ছে।
পরিষ্কার হিসাব। মৃত্যুর পরও তাদের এসব সদকায়ে জারিয়া হিসেবে কাজ করবে, তাদের কবর হবে শান্তিময়।
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। সে কেন চাইবে নিজেকে ধ্বংস করতে? সে নিশ্চয়ই চাইবে কবরে, কেয়ামতে, হাশরে, মিজানে মুক্তি পেতে।
প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন:
“যে ব্যক্তি মানুষকে নেক কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; যারা তার দাওয়াত পেয়ে নেক কাজ করবে অথচ তাদের সওয়াবের সামান্যও হ্রাস পাবে না।
অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি মানুষকে গুনাহের কাজের দাওয়াত দেবে সে ওই লোকদের সমপরিমাণ গুনাহ পাবে, যারা তার দাওয়াত পেয়ে গুনাহের কাজ করবে। অথচ তাদের গুনাহ হ্রাস পাবে না।”
(মুসলিম, হাদিস : ৬৯৮০)
সোশ্যাল মিডিয়াকে ভালো কাজে ব্যবহার করুন।
জান্নাত ও জাহান্নাম আপনার হাতে।
আপনি কোথায় যেতে চান,
জান্নাতে?
জাহান্নামে?
১০.০৭.২০২০
লণ্ডন।






Discussion about this post