নিউজ ডেস্ক: কলম টিভি
চট্টগ্রামের রাউজানে চার মাসের ব্যবধানে একই দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। (৫ জুন) শুক্রবার রাত আনুমানিক ৩ টার সময় উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের কোতোয়ালী ঘোনা সিকদার পাড়ায় অবস্থিত গহিরা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাব্বির স্টোর চুরি হয়। দরজার তালা ভেঙেই দোকানের ভেতরে ঢুকে চোরচক্র।
সাব্বির স্টোরের স্বত্বাধিকারী গহিরা ২ নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর আলম দোকানেই রাত যাপন করতেন, কিন্তু, ঘটনার রাতে পবিত্র শাওয়াল মাসের রোজা রাখার জন্য তিনি দোকান থেকে রাত ২টা ২০ মিনিটের সময় ঘরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সেহরি শেষ করে রাত ৩ টা ২৫ মিনিটে দোকানের কাছাকাছি এসে পৌঁছালে দোকানের সামনে থেকে কয়েকজন মানুষ দৌড়ে পালাতে দেখে দ্রুত দোকানে এসে দেখতে পান দোকানের দরজার তালা ভাঙ্গা, দরজা খোলা এবং মালামাল এলোমেলো পড়ে আছে। তিনি দোকান চুরির ঘটনা বুঝতে পেরে তৎক্ষনাত চোরের দলের পিছু নেওয়ার চেষ্টা করেন। ততক্ষণে দোকানের পূর্ব দিকে খালিবিল দিয়ে চোরেরা পালিয়ে যায়। সকালে এলাকাবাসীর সহায়তায় বিল থেকে দোকানের তালা ভাঙ্গার ব্যবহত লৌহার শক্ত রড ও চোরের ব্যবহারের এক জোড়া জুতা উদ্ধার করা হয়।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, দরজার তালার ক্লিপগুলো বাঁকা হয়ে আছে, দামী পণ্যসামগ্রী লুটে নিয়ে বাকি মালামাল গুলো এলোমেলো ভাবে পড়ে আছে পুরো দোকানের মালামাল তছনছ করে রাখা হয়েছে। মাত্র চারমাসের ব্যবধানে স্থানীয় মুদির দোকানে দ্বিতীয় দফায় চুরি সংঘটিত হওয়ায় এলাকাবাসীর মাঝে আশংকা বিরাজ করছে।
দোকান মালিক বলেন, লকডাউন ওঠে যাওয়ায় ক’দিন আগেই মোবাইল কার্ডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মালামাল দোকানে তুলেছি এরমধ্যেই চোরের হানা, তিনি প্রতিবেদককে প্রশ্ন রেখে বলেন, আপনিই বলুন গ্রামের দোকানে চার মাসের ব্যবধানে লক্ষ টাকার মালামাল চুরে নিয়ে গেলে আর কি থাকে? আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম!
স্থানীয়দের ধারণা, চোরের দল আগে থেকেই দোকান মালিকের গতিবিধি নির্ণয় করেই চুরির ঘটনা ঘটায়!
জানাযায়, বিগত ১২ বছরের মধ্যে একাধিকবার পার্শ্ববর্তী তাজউদ্দীন স্টোর চুরি হয় (বর্তমানে নেই)। এতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের মোবাইল কার্ড, মোবাইল সেট, বিকাশের নগদ টাকাসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মালামাল নিয়ে যায়। পরে তাজউদ্দিন স্টোর বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পাশে দিদার সওদাগরের চায়ের দোকানেও চুরি সংগঠিত হয়। বছরখানেক আগে প্রতিষ্ঠিত সাব্বির স্টোরে গত ২ ফেব্রয়ারী রাতে প্রথমবার চুরি সংঘটিত হয় এতে অনেক ক্ষতি সাধিত হয়, ৫ জুন রাত আড়াইটার দিকে দ্বিতীয়বারের মতো আবারও চুরি সংঘটিত হয়।







Discussion about this post