— মোঃ কামরুল ইসলামঃ
শরীয়তের বাইরে একজন মুমিন মুসলমানের কিছুই করা উচিত নয়।এক কথায় মহান আল্লাহ
কে জানার জন্য,চেনার জন্য বুঝার জন্য কোরান ও হাদিসই যথেষ্ট।কেননা পবিত্র কোরানের
সুরা আল জাসিয়াহ,র-১৮ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,”এরপর আমি আপনাকে রেখেছি ধর্মের
এক বিশেষ শরীয়তের উপর। অতএব, আপনি এর অনুসরণ করুন এবং অজ্ঞানদের খেয়াল- খুশীর অনুসরণ করবেন না।
অন্যদিকে মারেফাত = মা +রে +ফা +ত = মা = (নিজ) +[রে+ফা]= আল্লাহকে জানা ও চেনার মাধ্যম+ ত= একত্বে বিশ্বাস করা। আল্লাহকে চিনতে হলে,জানতে হলে,বুঝতে হলে আরেফ পর্যায়ের কামেল,পীর মোর্শেদকে উছিলা করে প্রকৃত সঠিক পথের সন্ধানে নিজ নিজ কর্মযজ্ঞ সাধন করা উচিত।
আল্লাহ বলেন, হে ঈমানদার গন তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর তাঁর সন্তষ্টি লাভের জন্য উছিলা গ্রহন কর। (সুরা মায়িদা, আয়াত-৩৫)
মহান আল্লাহ সূরা মায়ীদার ৪৮ নং আয়াতে আরো বলেন,আমি তোমাদের প্রত্যেকের জন্য একটি জীবন বিধান বা শরীয়ত অপর টি তরীকত সম্পর্কিত বিশেষ পথ নির্ধারন করে দিয়েছি। মুলত ইসলামের নীতি ও আদর্শসমূহ শরীয়ত আর এটি ইসলামের লিখিত সংবিধান।রাসুল (সা.) তাঁর জীবদ্দশায় তিনি যা বাস্তবায়ন করেছেন তা হচ্ছে শরীয়ত।
অন্যদিকে যে পদ্ধতির অনুশীলন দ্বারা আল্লাহর সাথে বান্দার যোগসূত্র স্থাপিত হয়, আল্লাহর সঠিক পরিচয় লাভ হয় এবং তাঁর চরিত্র মানুষের ভেতরে বিকশিত হয়,সেটি মারেফাত।
মারেফাতকে পবিত্র কুরআনে এলমে লাদুন্নি বলা হয়।
অন্যদিকে শরীয়ত হলো কথা সমূহ (আদেশ নিষেধ),তরীকত হলো কাজ সমূহ (আমল), হাকিকত হলো অবস্থা,আর মারেফাত হচ্ছে রহস্য।
মুলত শরীয়ত + মারফত…. তরিকত + হাকীকত সবটির গুরুত্ব ইসলামে রয়েছে তবে এই ক্ষেত্রে বর্তমানে অনেকে শরীয়তের বাইরে গিয়ে কোরান,হাদিসের সুস্পষ্ট বিধানকে উপেক্ষা করে মারেফতের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ছে।
অনেকের মতে,আল্লাহকে হৃদয়ঙ্গম করার জন্য কোরান হাদিসই যথেষ্ট তার আদেশ, নিষেধ যদি কোন মুসলমান পরিপুর্ন ভাবে পালন করতে পারে তা তার জন্য যথেষ্ট। পৃথিবীতে যত নবি ও রাসুল এসেছেন, সকলে মোরাকাবার মাধ্যমে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। অতঃপর মহান আল্লাহ যে নির্দেশ দিয়েছেন, সে নির্দেশের আলোকে তাঁরা ধর্ম পরিচালনা করেছেন। ইসলামে আত্মিক অনুশীলনের বিষয় হচ্ছে মুলত মারেফাত।মারেফাতের মাধ্যমেই ইসলাম ধর্মের আবির্ভাব ঘটেছে।হযরত রাসুলে পাক্ (সাঃ) তাঁর দীর্ঘ ১৫ বছর হেরা পর্বতের গুহায় ধ্যান সাধনায় আধ্যাত্মিক জ্ঞান,তথা আল্লাহর সঙ্গে যোগ সূত্র স্থাপন করেন।ধ্যান-সাধনার ফলে হযরত রাসুল (সাঃ)-এর ভেতর থেকে,তথা ক্বালবের সপ্তম স্তর নাফসির মোকাম থেকে ‘রূহুল কদুস বা আল্লাহর পবিত্র রূহ’ বের হয়ে এসে, পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন ‘ইয়া মুহাম্মদ ইক্বরা’ অর্থাৎ ‘হে মুহাম্মদ (সাঃ)আপনি পাঠ করুন।’ জবাবে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) বললেন ‘মা আনা বিক্বারী’ অর্থাৎ ‘আমি পড়তে অভ্যস্ত নই।’ অতঃপর ‘রূহুল কুদুস পরপর তিনবার রাসুলের ভেতরে প্রবেশ করে বের হয়ে এলেন। আর তখনই রাসুল (সাঃ)পড়তে শুরু করলেন।আল্লাহ বলেন “হে রাসুল (সা.) পাঠ করুন আপনার প্রতিপালকের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। যিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন জমাট রক্ত থেকে। পাঠ করুন,আপনার প্রতিপালক শ্রেষ্ঠ সম্মানিত,যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে। আর তিনি শিক্ষা দিয়েছেন মানুষকে,যা সে জানত না।” (সূরা আল ‘আলাক্ব ৯৬: আয়াত ১ থেকে ৫)।মারেফাত অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষের পক্ষে সম্ভব আল্লাহর সাথে যোগসূত্র স্থাপন করা এবং কেবলমাত্র তখনই সম্ভব আল্লাহর নির্দেশে নিজেকে পারিচালিত করা।মুলত শরীয়ত,মারেফত অনুসরন করতঃ মারেফতের অপব্যবহার রোধ করে পরিপুর্ন ইসলামী জীবন বিধান কায়েম ও বাস্তবায়নই একমাত্র শান্তির পথ।
লেখক- কবি,প্রাবন্ধিক,গনমাধ্যমকর্মী।







Discussion about this post