আরব আমিরাত থেকে বিশেষ প্রতিনিধি : আমিরাতের মিডিয়া খালিজ টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কনসাল জেনারেল মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশিদের সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাফল্যের গল্পের অংশ হতে দেখতে চাই। সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ নাগরিকদের ভিসা সহজ করার বিষয়ে আলোচনা করছে বলে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
দুবাই ও উত্তর আমিরাতে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ, স্থিতিশীল রয়েছে এবং ‘ভিসা জটিলতায়’ তা বৃদ্ধি পায়নি।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল ২০২৫) দুবাইয়ে দেশের ৫৫তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে খালিজ টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে (বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা) সহজ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।
অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলবাহরি, হেড অব প্রটোকল অ্যান্ড অপারেশনস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুবাই অফিস; সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ; আর অনুষ্ঠানে অন্যান্য দেশের কূটনীতিকসহ প্রায় ৩০০ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশি পেশাজীবীরা বিভিন্ন শিল্পে ও উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে।
রাশেদুজ্জামান বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসরত নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশ কনস্যুলেট সম্প্রতি অনেকগুলো নতুন কনস্যুলার উদ্যোগ চালু করেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সপ্তাহে তিন দিন (শনি, রবি ও শুক্রবার) বিভিন্ন আমিরাতে বিশেষ কনস্যুলার সেবা পরিচালনা করছি। যেসব কর্মী তাদের সময় বাঁচাতে কনস্যুলেটে আসতে পারেন না তাদের স্পট কনস্যুলার সেবা দিতে আমাদের টিম অন্যান্য আমিরাতে কাজ করছে এ ছাড়া আমরা আমাদের কনস্যুলেটের ভেতরে একটি হেল্প ডেস্ক খুলেছি, কারণ সঠিক তথ্য না থাকায় অনেক অশিক্ষিত কর্মী দালালদের ফাঁদে পড়েন। এবং মোবাইল সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশি নাগরিকদের তিন দিনের জন্য সব ধরনের কনস্যুলার সেবা দেওয়া হয়।
সিইপিএ আলোচনা বিষয়ে কনসাল জেনারেল জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাংলাদেশ সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) আলোচনা শুরু করেছে, যা ‘প্রাথমিক পর্যায়ে’ রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে মোট দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার। সিইপিএ আলোচনা সফল হলে বাণিজ্যের পরিমাণ বহুগুণ বাড়বে। তিনি বিশ্বাস করেন যে অর্থনৈতিক সম্পর্কগুলি পুরোপুরি শোষণ করা হয়নি এবং উভয় সরকার বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করছে। শুধু বাণিজ্য নয়, আমরা বাংলাদেশের হালাল মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, অবকাঠামো, বন্দর সুবিধা, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মতো খাতে অন্যান্য গন্তব্যে রপ্তানির জন্য ইউএই’র বিনিয়োগ চাই।







Discussion about this post