বিশেষ প্রতিনিধি, কলম টিভি, চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মধ্যম নাঙ্গলমোড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ড হেদায়াত আলীর বাড়ীর মরহুম রাজা মিয়ার ছোট ছেলে এম সেলিম উদ্দিন(৪৪)কে তাঁর স্ত্রী কুনছুমা সিদ্দিকা প্রিয়া (৩৪)নিজ হাতে সুপারি গাছের পালা দিয়ে শরীরে প্রত্যেক জায়গায় দৌড়িয়ে পিঠিয়ে আহত করে। আহত সেলিমকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত ডাক্তারা মৃত বলে ঘোষণা করে।
নিহতের বোন পারভিন জানায়,আমার ভাই গত সাত দিন ধরে টাউনে আমার বাসায় ছিল।বউয়ের অত্যাচারে নির্ঘুম রাত্রিযাপন করত আমার ভাই। দীর্ঘদুই বছর হলো আমার ভাই দেশে ফিরেছে।দেশে আসার পর থেকে আমার ভাইয়ের বউয়ের অত্যাচারীরে সীমা ছিল না।ঘর থেকে বাহির করে দিয়ে আমার ভাইকে খুঁড়ে ঘরে থাকতে দেয়া হয়েছে দেড় বছর ধরে।
রাতে বাসায় ঢুকলে কিরিস দিয়ে ধাওয়া করত, রাতে ভাত দিতো না,পানি দিতো না।
কিছু খাওয়ার জন্য চাইলে দা,বটি, কিরিস দিয়ে সারা বাড়ি দৌড়াত এ মহিলা।এ জল্লাদ মহিলাটি বার বার ডিভোর্স চাইত,কিন্তু আমার বিদেশ ফেরত ভাইয়ের অর্থকড়ি স্বচ্ছল না থাকায়, দুইটি ছেলে-মেয়ের দিকে থাকিয়ে সংসার করত।
এ মহিলা বিভিন্ন ছেলের সাথে ইমুতে/মেসেঞ্জারে স্থানীয় পর-পুরুষের সাথে ফোনে অশ্লীল কথা বলতো,ভিড়িও কলে বিভিন্ন ধরনের কুকর্মতে লিপ্ত ছিল।এসব কিছু আমার ভাইয়ের সামনেই করত,কিন্তু দুইটি অবুঝ সন্তানের দিকে তাকিয়ে আমার ভাই ডিভোর্স দিতে চাই নি।আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,প্রিয়া নামের মহিলাটি সামাজিক মিডিয়া ফেইসবুক,মেসেঞ্জারে অনেক ছেলেদের সাথে কথা বলত,প্রেম করত।
স্বামীকে না বলে রিজার্ভ সিএনজি করে নানা জায়গায় ঘুরতে চলে যেত।স্বামী সেলিম এ বিষয়ে স্থানীয় মেম্বার-চেয়ারম্যান,থানা-পুলিশ আইন আদালতে দৌড়িয়ে এর কোন সুরাহা মেলেনি।
নিহত সেলিমের বড় ভাই শাহাব উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশের এস আই আকরাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ করে,লাশের সুরহতাল প্রতিবেদনের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মাসুদুল আলম বলেন,আমরা লাশটি কে মর্গে প্রেরণ করেছি।এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।
সোমবার ১৪সেপ্টেম্বর বাদে মাগরিব জানাযার পর পারিবারিক কবরস্তানে দাফন করা হয়।
Discussion about this post