কুতুবউদ্দিন রাজু, চট্টগ্রামঃ
স্বাস্থ্যবিধি মেনে ইয়ার্ড পরিচালনা, মজুরি বোর্ডের বাস্তবায়ন, নিয়োগ পত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান এবং বেকার শ্রমিকদের অবিলম্বে সরকারী ত্রাণ পৌছানোর দাবীতে জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের উদ্যোগে এক মানব বন্ধন কর্মসূচী ৫ জুলাই ২০২০ রবিবার নগরীর পুরাতন রেল স্টেশন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয়।
শ্রমিক নেতা তপন দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় শ্রমিক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি শ্রমিক নেতা শফর আলী, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সভাপতি এ এম নাজিম উদ্দিন, বিলস এর কর্মকর্তা পাহাড়ী ভট্টাচার্য, জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন ফোরামের কোষাধ্যক্ষ রিজওয়ানুর রহমান খান, জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিক নেতা মোহাম্মদ আলী, কে এম শহিদুল্লাহ, মো. ইদ্রিস, কামাল উদ্দিন প্রমূখ নেতৃবৃন্দ।
বিলস এর কর্মকর্তা ফজলুল কবির মিন্টুর সঞ্চালনায় বক্তারা বলেন জাহাজভাঙ্গা শিল্পে জীবনের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে শ্রমিকেরা জাহাজ ভাঙ্গা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছে। এরমধ্যে দেশব্যাপী করোনা ভাইরাসের হানা এ সেক্টরের শ্রমিকদের জন্য আরো নতুন মাত্রায় ঝুঁকি তৈরি করেছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে ইয়ার্ড খোলার কথা বলা হলেও তা মনিটরিং এর কোন উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। এই করোনাকালীনও জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকেরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে কাজ করছে।
বিগত ১ জুলাই একই দিনে ৩টা পৃথক ইয়ার্ডে ৩ জন শ্রমিক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। বার বার বলা সত্বেও জাহাজ ভাঙ্গা খাতে শ্রমিকদের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য কোন পরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। সারা দেশে সাধারন ছুটি ঘোষিত হলে জাহাজ ভাঙ্গা সেক্টরে কেবল এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহ ছাড়া নিয়মিত খোলা ছিল। অথচ শ্রমিকেরা কোন ঈদ বোনাস পায়নি। অন্যদিকে ইয়ার্ড খোলা থাকলেও কমপক্ষে ২৫% শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে এ সেক্টরে অনেক শ্রমিক আয় শূন্য হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের ঘরে খাবারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকদের নিকট সরকারী ত্রাণ পৌঁছানোর জোর দাবী জানান। সভায় জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকদের চলমান আর্থিক দুরাবস্থার কথা বিবেচনা করে বিলস এর পক্ষ থেকে ত্রাণ হিসাবে খাদ্য সহযোগিতা দেয়া এবং জাহাজ ভাঙ্গা শ্রমিকদের নিকট অবিলম্বে ত্রাণ পৌঁছানোর দাবীতে জানানো হয়।
সভায় শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও পরিচয় পত্র প্রদান, সরকার ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি বাস্তবায়ন, চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ বন্ধ করা, রাত্রিকালীন এবং অতিরিক্ত কর্মঘন্টা কাজ না করানো শ্রমিকের পেশাগত স্বাস্থ্য নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা, প্রত্যেক ইয়ার্ডে দক্ষ সেফটি অফিসার নিয়োগ প্রদান, শ্রমিকদের মান সম্পন্ন এবং উপযুক্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জামাদি ব্যবহার নিশ্চিত করার দাবী জানানো হয়।
সভায় আইএলও কনভেনশন ৮৭ ও ৯৮ অনুসারে জাহাজভাঙ্গা শিল্প সেক্টরে অবাধ ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার নিশ্চিত করার জোর দাবী জানানো হয়।
Discussion about this post