বনে ভোজন ও নানা কথা—
কবে থেকে বনে ভোজন বা বনভোজন বা চড়ুইভাতির আয়োজন শুরু হয় তার ইতিহাস পাওয়া যায় না। বিশ্বে কবে থেকে এই বনভোজন বা এই ধরনের আনন্দ ভ্রমন শুরু হয়েছে সেটা নিয়েও নানা মুনির নানা মত রয়েছে।বেশিরভাগ গুণীর মতামত হচ্ছে বনভোজন বা এই ধরনের আনন্দ ভ্রমন বা যাকে আমরা picnic বলে থাকি মুলত তার প্রচলন করেছেন ফরাসিরা।
১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ফরাসি বিপ্লবের পর রাজ উদ্যান গুলো সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেবার পরই সেখানে পিকনিক বা বনভোজন করার প্রথা চালু হয়।
পিকনিক (pique-nique) শব্দের প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায় টনি উইলিসের…….. “Originies de la Langue Francaise de Menage”- গ্রন্থের ১৬৯২ সংস্করণে যেখানে পিকনিক অর্থ “a group of people dining in a restaurant who brought their own wine”।
Walter W. Skeat এর “A Concise Etymological Dictionary of the English Language” (১৮৮৮)- বইয়ে একই তথ্য পাওয়া যায়।
তবে অনুমান করা হয়,এই শব্দটি কথ্য গ্রীক থেকে নেয়া হয়েছে এবং ইংরেজি Pic শব্দটি নেয়া হয়েছে কথ্য শব্দ peck (খুঁটে খাওয়া) বা peckish (ক্ষুধার্ত/খিটখিটে) থেকে এবং Nic শব্দটি নেয়া হয়েছে কথ্য শব্দ knick (তুচ্ছ বা মূল্যহীন বস্তু) থেকে।
সেই যাই হোক রবীন্দ্রনাথ ‘চড়িভাতি’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেছেন সম্ভবত ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দে (দমদমের বাগানে চড়িভাতি করিয়া আসা যাক)।
অন্যদিকে বিদ্যাসাগর চড়ুইভাতি ব্যবহার করেন ১৮৯১ খ্রিষ্টাব্দে।বনভোজন শব্দটি পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ আবার ব্যবহার করেছেন ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দে –
(আজ আমাদের বনভোজন)।
শ্রীনগেন্দ্রনাথ বসু কর্তৃক সঙ্কলিত,প্রকাশিত ‘বিশ্বকোষ’ সপ্তদশ ভাগে (১৯০৭) বনভোজনকে দেশান্তরের প্রথা বলে উল্লেখ করেন(ইংরেজিতে Pic-nic)।
কিন্তু পাশাপাশি বলেছেন,‘আমাদের দেশেও বনভোজন শাস্ত্রসম্মত বলিয়া প্রচলিত।
মৌর্য্যযুগের ভারতীয় সমাজ’(১৯৪৫) গ্রন্থে ড.নারায়ন চন্দ্র বনভোজনের সাথে মিল পাওয়া যায় এমন কিছু অনুষ্ঠানে কথা উল্লেখ করেছেন।
যেমন- ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জঙ্গলমহলের (বীরভূম,বাঁকুড়া,পশ্চিম মেদেনীপুর,ঝাড়গ্রাম,ছোটো নাগপুর মালভূমির বন ও পর্বতময় অংশ)গ্রামগুলিতে আদিবাসী কুরমি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত বনভুজি নামক এক ধরনের আয়োজন ছিল উক্ত বনভুজিতে কোন চাঁদা তোলা হতো না।
যদিও আমাদের দেশে আমরা বনভোজনের চাঁদা গ্রহন করি।তখনকার ঐ সময়ে যে যার সাধ্যমতো আয়োজন করতো। ২য়ত,যে কোন ধরণের নেশা জাতীয় খাবার বা পানীয় নিষিদ্ধ ছিল। মহিলারা সবশেষে বাড়ি ফেরার আগে নিজেরা ঝুমুর গান গেয়ে নাচ করতো।অনেকের মতে বনভুজি থেকে আজকের এই বনভোজন।
সে যাই হোক,বনভোজন,আনন্দ ভ্রমন বলতে সাধারনত আনন্দ-উৎসব সহ কিছু আনন্দ প্রিয় মানুষ যখন জীবনের ব্যস্ততম কোলাহল হতে দুরে,বহুদুরে বিশেষ করে বনে কিংবা বাড়ীর বাইরে সমুদ্রের কিনারে,সবুজ বন বনানী সহ খোলা আকাশের নীচে একত্রিত হয়ে মিলে মিশে গল্প,গান করতে করতে এক সাথে ভোজন করে।
গত ৩৫ বছর ধরে একটানা চট্টগ্রাম শহরে আমার বসবাস।বাবা সরকারী চাকুরিজীবি হওয়ার কারনে এর আগে দেশের এক শহর হতে অন্য শহরে।
আমরা জানি,মানুষ সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে আর কর্ম ব্যস্ত জীবনে খানিকটা সময় আপনজন নিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াতে সবাই চায় তবে এই ধরনের আনন্দ ভ্রমন শরীর ও মনের সব ক্লান্তি শতভাগ দুর করে।
মনে পড়ে,গত ২০২০ সালে জানুয়ারী বা ফেব্রুয়ারীর মাসের কোন এক সময়ে বিশ্ব করেনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করার আগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি কর্তৃক আয়োজিত আনন্দ ভ্রমন -২০২০ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক হিসাবে সবাইকে শতভাগ আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম পরবর্তীতে সবাই তা স্বীকার করেছে আর সেটি বিভাগ কর্তৃক প্রথম বনভোজন ছিল বলে জানা গেছে।
বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির কারনে ২১ সালে বনভোজন করা সম্ভব না হলে ও একঘেঁয়ে ও বিনোদনহীন জীবন থেকে খানিকটা মুক্তির লক্ষ্যে এই বারের আয়োজন ছিল সম্পুর্ন ভিন্ন ও আনন্দে ভরপুর।
আমরা জানি,বনভোজনের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যদি বনভোজনের দিন আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
বিকেএ চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত আনন্দ ভ্রমন -২২ বনভোজনের দিন আবহাওয়া সত্যি আরাম দায়ক ছিল।
পৃথিবীর অন্য দেশের মত বনভোজনের আয়োজন করা হয় সাধারনত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কোন স্থান যেমন- পার্ক, নদী তীর,লেকের ধার,পাহাড়ের পাদদেশ ইত্যাদি।আমাদের দেশের নাগরিকদের উন্নত দেশের মত চিত্তবিনোদনের জন্য বিশাল পার্ক বা সুযোগ সুবিধা না থাকায় আমাদেরকে পাহাড়,নদী,সাগর হ্রদ ইত্যাদি স্থানকে বেছে নিতে হয়। এমনকি আনন্দ ভ্রমনে ভ্রমন কারীরা প্রকৃতির মনোরম ও সুন্দরতম স্থানকেই তাঁরা আনন্দ ভ্রমনের জন্য নির্বাচন করে।তাই এবারের স্থান ছিল বাঁশখালী ইকোপার্ক ও আনোয়ার পারকির চর।
যে কোন বনভোজন বা আয়োজনে অংশ গ্রহনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন সুন্দর মন,সুন্দর চিন্তা,নির্মল হৃদয়।এ সমাজ সংসারে সবাই কোন না কোনভাবে ব্যস্ত থাকে তারপরও সুন্দর মনের অধিকারীরা নিজে আনন্দ নিতে বা অন্যকে আনন্দ দিতে আনন্দ ভ্রমনে অংশ গ্রহন করে।
গত ৩৫ বছর ধরে একটানা চট্টগ্রাম শহরে আমার বসবাস।বাবা সরকারী চাকুরিজীবি হওয়ার কারনে এর আগে দেশের এক শহর হতে অন্য শহরে।
আমরা জানি,মানুষ সব সময় কর্মব্যস্ত থাকে আর কর্ম ব্যস্ত জীবনে খানিকটা সময় আপনজন নিয়ে বাইরে ঘুরে বেড়াতে সবাই চায় তবে এই ধরনের আনন্দ ভ্রমন শরীর ও মনের সব ক্লান্তি শতভাগ দুর করে।
মনে পড়ে,গত ২০২০ সালে জানুয়ারী বা ফেব্রুয়ারীর মাসের কোন এক সময়ে বিশ্ব করেনা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারন করার আগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটি কর্তৃক আয়োজিত আনন্দ ভ্রমন -২০২০ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক হিসাবে সবাইকে শতভাগ আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলাম পরবর্তীতে সবাই তা স্বীকার করেছে আর সেটি বিভাগ কর্তৃক প্রথম বনভোজন ছিল বলে জানা গেছে।
বিশ্ব করোনা পরিস্থিতির কারনে ২১ সালে বনভোজন করা সম্ভব না হলে ও একঘেঁয়ে ও বিনোদনহীন জীবন থেকে খানিকটা মুক্তির লক্ষ্যে এই বারের আয়োজন ছিল সম্পুর্ন ভিন্ন ও আনন্দে ভরপুর।
আমরা জানি,বনভোজনের আনন্দ তখনই পূর্ণতা পায় যদি বনভোজনের দিন আবহাওয়া আরামদায়ক থাকে।
বিকেএ চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক আয়োজিত আনন্দ ভ্রমন -২২ বনভোজনের দিন আবহাওয়া সত্যি আরাম দায়ক ছিল।
পৃথিবীর অন্য দেশের মত বনভোজনের আয়োজন করা হয় সাধারনত প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত কোন স্থান যেমন- পার্ক, নদী তীর,লেকের ধার,পাহাড়ের পাদদেশ ইত্যাদি।আমাদের দেশের নাগরিকদের উন্নত দেশের মত চিত্তবিনোদনের জন্য বিশাল পার্ক বা সুযোগ সুবিধা না থাকায় আমাদেরকে পাহাড়,নদী,সাগর হ্রদ ইত্যাদি স্থানকে বেছে নিতে হয়। এমনকি আনন্দ ভ্রমনে ভ্রমন কারীরা প্রকৃতির মনোরম ও সুন্দরতম স্থানকেই তাঁরা আনন্দ ভ্রমনের জন্য নির্বাচন করে।তাই এবারের স্থান ছিল বাঁশখালী ইকোপার্ক ও আনোয়ারা পারকির চর।
যে কোন বনভোজন বা আয়োজনে অংশ গ্রহনের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন সুন্দর মন,সুন্দর চিন্তা,নির্মল হৃদয়।এ সমাজ সংসারে সবাই কোন না কোনভাবে ব্যস্ত থাকে তারপরও সুন্দর মনের অধিকারীরা নিজে আনন্দ নিতে বা অন্যকে আনন্দ দিতে আনন্দ ভ্রমনে অংশ গ্রহন করে।
বিকেএ চট্টগ্রাম বিভাগ কর্তৃক স্মরণকালের স্মরণীয় আনন্দ ভ্রমন-২০২২,তে সকল সদস্য নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রাম শহর হতে সকাল ৮ টা যাত্রা শুরু করে প্রথমে বাঁশখালী ইকো পার্ক,ঝরণা,ঝুলন্ত সেতু,হ্রদ,প্রকৃতির অপরূপ দৃশ্য,গভীর বনে আড্ডা,গভীর বনে দুপুরের ভোজন, রেফেল ড্র,পুরস্কার বিতরণ সহ সব কর্মযজ্ঞ শেষ করে আনন্দ ভ্রমনে যারা উপস্থিত ছিল সেই উপস্থিত বন্ধুদের সুললিত কন্ঠে গান শুনতে শুনতে যখন দুপুর গড়িয়ে বিকেল তখন সবাই আনোয়ারা পারকির চর সমুদ্র পাড়ে।
মনে রাখা ভাল, জীবন বড্ড নির্মম। জীবনের প্রতি ক্ষেত্রে আনন্দ নেয়া বা দেয়ার জন্য শত শত সদস্যের
বা মানুষের প্রয়োজন হয় না,সুন্দর মনের কয়েকজনে যথেষ্ট।এই বারের আয়োজন তার জলন্ত প্রমান।অন্যদের মত এই বার বিকেএ চট্টগ্রাম বিভাগ নেতৃবৃন্দ পার্ক বা উদ্যান, হ্রদ কিংবা সাগরের কিনারের মতো চিত্তাকর্ষক স্থানকেই প্রাধান্য দেয়।
সেই ক্ষেত্রে ইকোপার্ক হতে পারকির চর,সমুদ্র কিনারে দাড়িয়ে গিটার হাতে মৃদু স্বরে আমার গান গাওয়ার চেষ্টা আমার মনে থাকবে অনেকদিন।
আমাদের এই আনন্দ ভ্রমনকে কেউ বনভোজন,কেউ শিক্ষা সফর নামেই অভিহিত করে থাকতে পারে। আনন্দ ভ্রমন মুলত এক ধরনের শিক্ষা সফর।মুলত এই ধরনের ভ্রমন অজানাকে জানতে, অচেনাকে চিনতে প্রকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্য অবলোকন করার জন্য যথাযত পদক্ষেপ।
এই প্রিয় জম্মভুমি বাংলাদেশের আনাচে,কানাচে কত সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে আর সৃষ্টিকর্তা এই দেশকে মনের মাধুরী মিশিয়ে সাজিয়েছেন তা স্বচক্ষে না দেখলে যে কেউ কারও কল্পনা করা ও কষ্টকর হবে।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন এসোসিয়েশন কর্তৃক এইবার আয়োজিত আনন্দ ভ্রমন —-২০২২ আমাদের সকলের নিকট আনন্দের উৎস হলে ও এটি মুলত শারীরিক, মানসিক ও জীবন চলার পথে অনেক কিছু জানতে, শিখতে গুরুত্বপুর্ন ভূমিকা পালন করবে বলে আমার বিশ্বাস।
আমাদের এই বারের আয়োজনকে নামকরণ করা হয়েছে এই ভাবে,চট্টগ্রাম বিভাগের মিলন মেলা সাগরে ও পাহাড়ে।
এই মিলন মেলায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় নেতৃবৃন্দ,কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রানবন্ত করে।
কবির ভাষায় আজও গাইতে ইচ্ছে করে..
মানুষ যখন পাকা করে প্রাচীর তোলে নাই
মাঠে বনে শৈলগুহায় যখন তাহার ঠাঁই,
সেদিনকার আলগা- বিধির বাইরে -ঘোরা প্রাণ
মাঝে মাঝে রক্তে আজও লাগায় মন্ত্রগান।
লেখক- মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম।
কবি, প্রাবন্ধিক ও গনমাধ্যমকর্মী।







Discussion about this post